বারানসিরাজ ব্রহ্মদত্তের সময়ে বোধিসত্ত্ব একবার বানররূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পূর্ণ বয়সে তিনি ছিলেন অসাধারণ শক্তির অধিকারী। তিনি একাকী এক নদীর তীরে বিচরণ করতেন। নদীর অপর পারে ছিল একটি আম-কাঁঠালের দ্বীপ। বোধিসত্ত্ব যে নদীর তীরে থাকতেন সে নদীর মাঝখানে একটি শৈল পর্বত ছিল। বোধিসত্ত্ব প্রতিদিন নদী তীর থেকে এক লাফে সেই পর্বতের ওপর এবং সেখান থেকে এক লাফে দ্বীপে গিয়ে পড়তেন। সেই দ্বীপে তিনি পেটভরে আম-কাঁঠাল খেয়ে সন্ধ্যার সময় ঠিক একই ভাবে নদী পার হয়ে ফিরে আসতেন।
ঐ নদীতে বাস করত সস্ত্রীক এক কুমির। বোধিসত্ত্বকে প্রতিদিন নদী পারাপার হতে দেখে কুমিরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর তাঁর হৃৎপিণ্ড খাওয়ার সাধ হলো। সে তার সাধের কথা কুমিরকে জানাল। স্ত্রীর সাধ পূরণের উদ্দেশ্যে কুমির সন্ধ্যার সময় বোধিসত্ত্বকে ধরার জন্য পর্বতের ওপর উঠে বসে থাকল।
বোধিসত্ত্ব প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় ফেরার আগে নদীর জল কতদূর বাড়ল, শৈল কতদূর জেগে থাকল তা মনোযোগ সহকারে দেখে নিতেন। সেদিন সারাদিন বিচরণপূর্বক সন্ধ্যাকালে পর্বতের দিকে তাকিয়ে তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি লক্ষ করলেন, নদীর জল বাড়েওনি কমেওনি, অথচ পর্বতের উপরিভাগ উঁচু হয়ে আছে। তাঁর মনে সন্দেহ হলো। নিশ্চয় তাঁকে ধরার জন্য কুমির পর্বতের ওপর উঠে বসে আছে। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে চিৎকার করে পর্বতকে ডাকতে থাকলেন, 'ওহে পর্বত'। কোনো উত্তর না পেয়ে আবার ডাকলেন। এতেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বললেন, 'ভাই পর্বত! আজ কোনো উত্তর দিচ্ছ না কেন?'
কুমির ভাবল, এই পর্বত নিশ্চয় প্রতিদিন বানরের ডাকে সাড়া দিয়ে থাকে। আজ আমি পর্বতের পরিবর্তে সাড়া দিই। তখন সে উত্তরে বলল, 'কে, বানরেন্দ্র নাকি?'
বোধিসত্ত্ব জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কে?' সে উত্তর দিল, আমি কুমির।
-তুমি পর্বতের ওপর বসে আছ কেন?
-আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর তোমার কলিজা খাওয়ার সাধ হয়েছে। তাই তোমাকে ধরতে বসে আছি।
-কুমির ভাই, আমি তোমাকে ধরা দিচ্ছি। তুমি হাঁ কর, আমি তোমার মুখের ভিতর লাফিয়ে পড়ছি। তখন তুমি আমায় ধরতে পারবে।

কুমির ও বানর
কুমির যখন মুখ হাঁ করে তখন তার দুচোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পায় না। বোধিসত্ত্ব যে কৌশলে নিজের জীবন রক্ষা করতে চেষ্টা করছিলেন কুমির তা বুঝতে পারেনি। সে বোধিসত্ত্বের কথামতো মুখ হাঁ করে চোখ বন্ধ করে রইলো। এই অবস্থায় বোধিসত্ত্ব এক লাফে তার মাথার ওপর এবং আরেক লাফে খুব দ্রুতগতিতে নদীর ওপারে পৌঁছে গেলেন। কুমির এই কান্ড দেখে অবাক হয়ে বানরের উদ্দেশ্যে বললো, 'বানরেন্দ্র, চারটি গুণ থাকলে সব শত্রু জয় করা যায়। সে চারটি গুণ হলো সত্য, ধৈর্য, ত্যাগ আর বিচক্ষণতা। তোমার মধ্যে এই চারটি গুণই আছে। তোমাকে নমস্কার।'
এভাবে বানররূপী বোধিসত্ত্বের প্রশংসা করে কুমির চলে গেল।
উপদেশ: ধৈর্য ও বুদ্ধি দিয়ে বিপদের মোকাবিলা করতে হয়।
অনুশীলনমূলক কাজ |